Life Style

বিশ্ব চা দিবসে আপনার বাহ্যিক সৌন্দর্যের দায়িত্ব নেবে এবার গ্রিন টি

রূপচর্চাতে গ্রিন টি এবং বিভিন্ন ভেষজ চা-এর গুন অপরিহার্য

পল্লবী কুন্ডু : ‘চা-এর প্রতি প্রেম সব ভালোবাসার ঊর্ধ্বে’, এই বাক্য অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন চা প্রেমীরা। আর আজকের দিনটা শুধুমাত্র তাদের জন্যই। আজ বিশ্ব চা দিবস(International Tea Day), যদিও United Nations general assembly-এর অনুমোদিত চা দিবস ২১ মে। তবে আজ অর্থাত্‍ ১৫ ডিসেম্বরই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চা দিবস হিসেবে গণ্য করা হয়। চা-এর যে হাজার গুণ রয়েছে সে ব্যাপারে আর জানেন সকলেই। তবে প্রতিদিনের ঘরোয়া রূপচর্চাতেও যে চা বিশেষ করে গ্রিন টি এবং বিভিন্ন ভেষজ চা-এর গুন যে অপরিহার্য সে কথা বোধহয় অনেকেরই অজানা।

তবে আর দেরি কেন ? চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক চা-এর কিছু বিশেষ গুণাবলী। যা কাজে আসবে আপনারও। আর এখন ঘরে বসে ঘরোয়া পদ্ধতিতে রূপচর্চা চান সকলেই। তাদের জন্য প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত এই চা। প্রথমেই আসা যাক শীতে মাথার খুশকির সমস্যায়। শীতকালে রুক্ষ-শুষ্ক আবহাওয়ায় আমাদের ত্বক এবং মাথার তালুও শুষ্ক হয়ে যায়। ফলে তীব্র ভাবে দেখা দেয় খুশকির সমস্যা। এর থেকে রেহাই পেতে ১ কাপ গ্রিন টি-র লিকার, ১টি লেবুর খোসা এবং ৩ থেকে ৪ টেবিল চামচ নারকেল তেল একটি পাত্রে গরম করে মিশ্রণ বানিয়ে নিন। একটু ঠান্ডা করে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট রেখে দিন। এরপর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে নিলে খুশকির সমস্যা কমে যাবে। মাসে ৩ থেকে ৪ বার এই পদ্ধতিতে চুল ধুতে পারলে আপনার খুশকির সমস্যা থেকে খুব সহজেই মুক্তি পাবেন আপনি।

এরপরেই আসা যাক চুলের সার্বিক পরিচর্যা। যাঁদের চুল খুব রুক্ষ তাঁরা শ্যাম্পু বা হেনা করার পর চায়ের লিকারে লেবুর রস মিশিয়ে লাগাতে পারেন। এর ফলে চুল নরম থাকবে। পাশাপাশি ঔজ্জ্বল্য ফিরে পাবেন। অর্থাত্‍ চুল থাকবে ঝলমলে। এক্ষেত্রে সাধারণ চায়ের বদলে বিভিন্ন ভেষজ চা ব্যবহার করলে ভাল। গরম জলে টি-ব্যাগ ডুবিয়ে লিকার তৈরি করে নিন। তারপর সেই লিকার একদম ঠান্ডা হলে সেই জল দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। খানিকক্ষণ চায়ের লিকার মিশ্রিত জল চুলে থাকতে দিন। মিনিট পাঁচেক পর ফের পরিষ্কার জল দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। চায়ে থাকা ক্যাফাইন রুক্ষ চুলের ক্ষেত্রে কন্ডিশনারের কাজ করে। চায়েক লিকার মিশ্রিত জল দিয়ে শ্যাম্পুর পর চুল ধুলে চুল সতেজ থাকে। চুল পড়ার সমস্যাও কিছুটা কমতে পারে। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার এই পদ্ধতিতে চুল ধুয়ে দেখতে পারেন। তবে অয়েলি স্ক্যাল্প এবং খুশকির সমস্যা থাকলে এই প্রক্রিয়া আপনার চুলে অ্যাপ্লাই করবেন কিনা সে ব্যাপারে বিউটি এক্সপার্ট বা ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে নেবেন অবশ্যই।

এরপর আসা যাক শারীরিক পরিচর্যায়। বডি ট্যান দূর করতে গ্রিন টি অপরিহার্য- শীতকালেও মুখ এবং হাত-পায়ের চামড়ায় যথেষ্ট ট্যান পড়ে। আর গরমকালে সানবার্নের সমস্যা তো প্রায় সকলেরই হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ট্যান বা কালো ছোপ দূর করার জন্য গ্রিন টি দারুণ ভাবে কাজ করে। এক চা-চামচ গ্রিন টি পাতা, দুই টেবিল চামচ বেসন, এক টেবিল চামচ গুঁড়ো দুধ বা এমনি দুধ, সামান্য হলুদ গুঁড়ো এবং গোলাপ জল দিয়ে একটি মিশ্রণ বানিয়ে নিতে পারেন। মুখে ও হাতে-পায়ে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রেখে হাল্কা গরম জল দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। চার-পাঁচদিন এই অভ্যাস করলে ত্বকের কালচে দাগ-ছোপ দূর হবে এবং ত্বক উজ্জ্বলও হবে।

পাশাপাশি, বডি স্ক্রাব এবং ফেস মাস্ক। এখন যেহেতু শীতকাল তাই প্রায় সবাই রাতে ঘুমানোর আগে মুখে ক্রিম লাগান। এই ক্রিম লাগানোর আগে গ্রিন টি-র ঠান্ডা লিকার আর গোলাপজল একসঙ্গে মিশিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। তারপর ক্রিম লাগান। এতে মুখের ত্বক নরম থাকবে এবং উজ্জ্বল হবে। এছাড়াও বডি স্ক্রাবের জন্য স্নানের সময় গ্রিন টি-র টি ব্যাগ ভেজানো ঠান্ডা জল, মধু, লেবুর রস ও টক দই মিশিয়ে একটি মিশ্রণ বানিয়ে গায়ে এবং হাত ও পায়ে লাগান। মিনিট ২০ রাখার পর হাল্কা গরম জল দিয়ে আলতো হাতে মালিশ করে নিন। তারপর গরম জল দিয়ে ভাল করে স্নান করে নিন। এর ফলে ত্বক উজ্জ্বল হবে। ট্যান থাকলে তা কমে যাবে।

এছাড়াও বার্ধক্যের সময় ছেলে-মেয়েদের ব্রন-র সমস্যায় ভীষণ ভাবে ভুগতে হয়। যাদের মুখে ব্রনর সমস্যা রয়েছে তাঁরা গ্রিন-টি ভেজানো জল দিয়ে মুখ ধুতে পারেন। গরম জলে গ্রিন টি-র টি ব্যাগ মিশিয়ে লিকার তৈরি করে নিন। এরপর ওই মিশ্রণ ঠান্ডা হলে ফ্রিজে রেখে দিন। বাইরে বেরোলে বাড়ি ফিরে, কিংবা স্নানের সময় ওই মিশ্রণ তুলোয় করে আলতো হাতে সারা মুখে লাগিয়ে নিন। মিনিট ১৫ রেখে তারপর পরিষ্কার জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। বেশ কয়েকদিন টানা এই অভ্যাস করলে ব্রনর সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি।

তাহলে চা দিবসের দিন চা-এর গুনাগুন প্রাত্যহিক জীবনে কাজে আসবে আপনারও। আজ থেকে শুধুমাত্র পানের জন্য না। বাহ্যিক দিক দিয়েও নিজেকে সুন্দর রাখতে ব্যবহার করুন গ্রিন টি।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: