Foods

মিষ্টি পর্বের শুরুতেই তিক্ত অভিজ্ঞতা, স্থগিত মোয়া হাব তৈরীর কাজ

উপযুক্ত জায়গার অভাবে মার খাচ্ছে মোয়া হাব তৈরির কাজ। বসছে না আধুনিক মেশিন।

পৃথা কাঞ্জিলাল : শীত মানেই মিষ্টি আর মিষ্টি মানেই নলেন গুড় আর নলেন গুড় মানেই রসগোল্লা বা মোয়া। তবে এই মোয়া নিয়েই বিভ্রাটে ব্যবসায়ীরা। উপযুক্ত জায়গা নেই তাই পেছোচ্ছে মোয়া হাবের ( Moya Hub) কাজ। ফলে বাধার মুখে জয়নগরের মোয়া শিল্প। কতদিনে তৈরি হবে এই মোয়া হাব, তা বুঝে উঠতে পারছেন না মোয়া ব্যবসায়ীরা।

২০১৭ সালে গঙ্গাসাগরে একটি সভা থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন জয়নগরের মোয়াকে বিদেশের মানচিত্রে জায়গা করে দেওয়ার জন্য তৈরি করা হবে মোয়া হাব। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দপ্তরগুলি ২০১৮ সালে প্রায় তিন কোটি টাকা খরচ করে মেশিন আনে জয়নগরে। কিন্তু জায়গার অভাবে এখনো সেই মেশিন বসানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে জয়নগরের শ্রীপুরে রাজ্যের সংখ্যালঘু দপ্তরের তৈরি একটি বিল্ডিংয়ে ওই মেশিন বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে মেশিন বসানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে এখনো পাওয়া যায়নি কোনো উত্তর, বসেনি মেশিনও।

এ বিষয়ে মোয়া ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রঞ্জিত ঘোষ বলেন, ‘জায়গা নিয়ে সমস্যার কথা শুনে আমি সরকারিভাবে জায়গা দিতে এগিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু শুধু জায়গা থাকলে হবে না সেখানে ঘর তৈরি করে দিতে হবে।’ মোয়া ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবি, মেশিনটি কাজ করতে শুরু করলে মোয়ার প্যাকেজিং এবং গুণমান সবটাই খুব ভালভাবে বজায় রাখা সম্ভব হতো। কিন্তু মেশিনটি পড়ে থাকার কারণে মোয়া চিরাচরিত পদ্ধতিতে তৈরি করতে হচ্ছে যার ফলে ৭ থেকে ১০ দিনের বেশি মোয়া ভাল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। কনকচূড় ধানের খই, নলেন গুড়, কাজু, পেস্তা ও ভাল মানের ঘি সহযোগে বানাতে হয় মোয়া। এই সমস্ত উপকরণ হাত দিয়ে পাকিয়ে তৈরি মোয়া খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, নেমে যায় গুণমান ও । মেশিনের সাহায্যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা গেলে অনেক দিন এই খাদ্য বস্তুটি ভাল রাখা সম্ভব হবে। ফলে এখনো ফিতে কাঁচির থেকে অনেক দূরেই নতুন প্রযুক্তির এই ভবিষ্যৎ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: