Women

অবৈধ্য সম্পর্খে সেই পুরুষের বিচার হয় না কেন ? আলিপুর দুয়ারে অবৈধ সম্পর্কের জেরে নিন্ম রুচির বিচার করলেন সমাজ মাতব্বরেরা আদিবাসী মহিলার বিরুদ্ধে !

কে এই অধিকার দেয় সমাজ মাতব্বরদের , এরাই আবার ভোটার বাজারে বাজার ধরতে নামেন। তাহলে এই মাতব্বরদের কুকীর্তির দায় কি নেবে-না রাজনীতির দাদা- দিদিরা ?

নিজস্ব সংবাদদাতা : এ কোন বাংলা? যেখানে মহিলাদের নূন্যতম সম্মান পাওয়ার অধিকার নেই। এই প্রশ্ন শুধু বাংলাতে নয় , এর উত্তরের দাবিতে ৭৩ তম প্রজাতন্ত্রে দাঁড়িয়ে এক জন সচেতন নাগরিকের প্রশ্ন। ইনিও তো বাংলার মেয়ে , আমরা তো বাংলার মেয়ে কেই চেয়েছি নবান্নে। আমাদের আশা পূরণ করছে ২০২১ এর বাংলা , তবুও আদিবাসী মহিলাকে নগ্ন করে ঘোরানো হচ্ছে. আলিপুরদুয়ার এর কুমারগ্রামে বর্বরতার চরম নিদর্শন। তাও আবার ভিডিও করে সেটা কে মজা দায়ক পর্ন করে তুলেছে এই সমাজ । বেশ চর্চার জায়গা হয়ে উঠেছে এই করোনা কালে, কেও একবার বিবেচনা করলেন না – এটা কি ঠিক ? অবশেষে ১০ জনের নামে অভিযোগ , তিন জন কে গ্রেফতার করেছেন পুলিশ। সব মিলিয়ে তদন্ত করছে জেলা পুলিশ কর্তৃপক্ষ । রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন নিন্দা করেছেন সংবাদ মাধ্যমের কাছে , আসতে পারেন বা নাও আসতে পারেন জাতীয় মহিলা কমিশন – সব মিলিয়ে ওই টুকুতেই ইতি।

এখন প্রশ্ন :

১) : গ্রামের সালিশি সভা করা কি আইন সম্মত ?
২) মহিলার স্বামী কোন অভিযোগ করেন নি , তিনি তার স্ত্রী বাড়িতে থাকতে দিতেও আপত্তি করেন নি। তাহলে এই অতি উৎসাহ কেন মাতব্বরদের ?
৩) এই সময় গ্রামের পঞ্চায়েত থেকে পার্টির মাতব্বরেরা কি ঘুমাচ্ছিলেন ?
৪) যদি বিবাহবহির্ভুত সম্পর্কের জেরে মহিলাকে সামাজিক শাস্তির মুখে পড়তেই হয় তাহলে ওই পুরুষ টি কেন বাদ ?
৫) জেলা আইনি পরিষেবা কেন্দ্রের কর্তারা কোথায় , কেন তারা হস্তক্ষেপ করলেন না ?
৬) স্থানীয় পুলিশ কেন এই অত্যাচার আটকাতে পারলেন না , আগাম খবরাখবরের বাইরে থাকেছেন তাহলে ?
৭) প্রতিবছর ঘটা করে সামাজিক কাজের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকার প্রাপ্তি যোগ ঘটে ক্লাব গুলোর রাজ্য সরকার থেকে , তাহলে তারা কোথায় ?
৮) কুমার গ্রাম সহ আলিপুর দুয়ারে অনেকে NGO কাজ করেন তারা কোথায় , কেন এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করলেন না ?
৯) সচেতন ভাবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে দেশের প্রধান মন্ত্রী বাছতে পারি আমরা কিন্তু আমারদের ওই আদিবাসী বোনের সন্মান রক্ষা করতে পারি না কেন ?
১০) কে এই নগ্নতার ভিডিও ছবি তুললো, ওই মহিলার সম্মানের কথা না ভেবে কে-ই বা এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে দিলেন পুলিশ কে না দিয়ে ?
১১) সবকটি রাজনৈতিক দলের মহিলা সমিতি কেন ওই খানে দাঁড়িয়ে নির্যাতিত মহিলার নির্যাতন আটকাতে পারলেন না ?
১২) বিধায়ক থেকে এমপি রা কেন ব্যবস্থা নিলেন না ?

এক নজরে দেখে নিন এই দেশ ও আমাদের সমাজে মহিলাদের উপর অত্যাচারের সংখ্যাতত্ব :

রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ২০১৮-র তুলানায় ২০২১-এ মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ বেড়েছে ৭.৩ শতাংশ। পাশাপাশি শিশুদের উপরও অত্যাচারের ঘটনা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ ( সাম্প্রতিক তথ্য প্রকাশিত হয় নি )

২০১৯-এ এনসিআরবি-র রিপোর্ট অনুসারে, মোট চার লক্ষ পাঁচ হাজার ৮৬১টি অপরাধের শিকার হয়েছেন মহিলারা। ২০১৮-তে যা ছিল ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার ২৩৬। ২০১৭-তে ৩ লক্ষ ৫৯ হাজার ৮৪৯। ২০১৯ জুড়ে প্রতি এক লক্ষ মহিলার মধ্যে ৬২.৪ জন কোনও না কোনও ভাবে অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। ২০১৮-তে তা ছিল ৫৮.৮। নারীর উপর অত্যাচারের ঘটনায় শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। দেশের মোট অপরাধের ১৪.৭ শতাং‌শই ঘটেছে যোগীরাজ্যে। এর পর রাজস্থান (১০.২ শতাংশ) ও মহারাষ্ট্র (৯.২ শতাংশ)।

দেশের যত নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে তার প্রায় এক তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রেই মহিলারা নির্যাতিত হয়েছেন তাঁদের স্বামী বা অন্য আত্মীয়দের দ্বারা কিছুটা প্রতিবেশীদের দাড়াও। স্বামী বা নিকট আত্মীয়দের হাতে নির্যাতনের ঘটনা এক লক্ষ ২১ হাজারেরও বেশি। মহিলাদের উপর সংগঠিত মোট অপরাধের ২১.৮ শতাংশ শ্লীলতাহানি বা যৌন হেনস্থার। এনসিআরবি-র তথ্য বলছে মেয়েদের উপর মোট অপরাধের ১৭.৯ শতাংশ অপরহণ সংক্রান্ত ও ধর্ষণের ঘটনা ৭.৯ শতাংশ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: