Women

পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে মাঝরাতে নির্যাতিতার মৃতদেহ পুড়িয়ে দেয় পুলিশ, চুপ করে সরকার

সারা দেশ যখন ধর্ষকদের গ্রেফতারি দাবি জানাচ্ছে, তখন রুদ্রমূর্তি রূপ ধারণ করছে পুলিশ

দেবশ্রী কয়াল : দীর্ঘ ১৫ দিন ধরে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গেছিলেন নির্যাতিতা। কিন্তু সেই জীবন যুদ্ধের যাত্রা কাল মঙ্গলবার থেমে যায়। উত্তরপ্রদেশের হাথরস এর গনধর্ষনের ঘটনা আজ সবার জানা। নির্মম ভাবে নির্যাতন, পীড়া, শারীরিক অত্যাচার হয়েছে তরুণীর উপর। আর তার পর থেকেই সারা দেশ জুড়ে মানুষ জানাচ্ছে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ। যাতে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা হয় সেই জন্যে যেন হচ্ছে দাবি। রাজনৈতিক রং ভুলে আজ সবাই এগিয়ে এসেছে তরুণীর অভিযুক্তকে শাস্তি দেওয়ার জন্যে। কিন্তু এরই মাঝে ঘটে যায় একটি চমকে দেওয়ার ,মত ঘটনা।

যখন মধ্যরাতে মেয়ের দেহ ঘিরে বসে আছে শোকস্তব্ধ পরিবার। আচমকা পুলিশ এসে নিয়ে যায় সেই মেয়ের মৃতদেহ। আত্মীয়রা গাড়ি আটকালেও কোনও লাভ হয় না। পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে মধ্যরাতেই তরুণীর মৃতদেহ পুড়িয়ে দেয় পুলিশ। আর তারপর থেকেই উঠছে নানান প্রশ্ন, হচ্ছে সমালোচনা। উত্তরপ্রদেশ এমন একটি রাজ্য যেখানে বহুবার ধর্ষণের কান্ড ঘটেছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছিল, এমন কেউ নির্মম ঘটনা ঘটালে তাঁর উপযুক্ত শাস্তি হবে, রেহাই হবে না। তাহলে এই ক্ষেত্রে কী হল ? কেন পরিবারের অনিচ্ছা সত্বেও পুলিশ পুড়িয়ে দিল তরুণীর মৃতদেহ ?

টানা ১৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর মঙ্গলবার দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে মৃত্যু হয় দলিত পরিবারের তরুণী নির্যাতিতার। পরে হাসপাতাল থেকে মৃত দেহ নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর বাড়িতে। এরপর পুলিশের সঙ্গে বচসা চলে তরুণীর পরিবারের। রাত ১০টা ১০ মিনিটে হাসপাতাল থেকে দেহটি ছেড়ে দেওয়া হলে, তাঁদের কিছু না জানিয়েই পুলিশ দেহটি নিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ করেন তরুণীর বাবা ও দাদা। হাসপাতালের বাইরে ধর্নায়ও বসেন তাঁরা। পরে সেখান থেকে তাঁদের সঙ্গে নিয়ে হাথরসের উদ্দেশে রওনা দেয় পুলিশ।

এরপর দেহটি হাথরসে বাইরে পৌঁছতে নির্যাতিতার পরিবারের লোকজন, আত্মীয়রা পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তারা সাফ জানিয়ে দেয় যতক্ষণ না তাঁরা সুবিচার পাচ্ছেন ততক্ষন মেয়েকে দাহ করবেন না। কিন্তু এরই মাঝে হটাৎ রুদ্রমূর্তি ধারণ করে পুলিশ। রাতেই মৃত দাহ করতে হবে বলে চাপ সৃষ্টি করে নির্যাতিতার পরিবারের উপর। নির্যাতিতার বাবা ও দাদা অভিযোগ করে জানান, তাঁদের আপত্তি সত্বেও পুলিশ মৃতদেহ তুলে নিয়ে যায় ও পুড়িয়ে দেয়।

গতকাল রাতে পুলিশকে পরিবারের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, হিন্দু রীতি মেনেই মেয়েকে দাহ করবেন, তবে রাতে নয়। এর পরেই পুলিশ তাঁদের উপর রীতিমত জোর খাটাতে শুরু করে বলে অভিযোগ। এমনই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পরে একটি ভিডিও, সেখানে দেখা যায়, নির্যাতিতার পরিবারকে এক পুলিশকর্মী বলছেন, ”সময়ের সঙ্গে রীতি-নীতি বদলায়। তবে আপনারাও ভুল করেছেন। সেটা মেনে নিন।”

জানা যাচ্ছে , এর পরই নির্যাতিতার পরিবারের লোকজন, আত্মীয়-স্বজন এবং গ্রামবাসীদের তালাবন্ধ করে রেখে, দেহটি নিয়ে শ্মশানের উদেশ্যে বেরিয়ে পডে় পুলিশ। মেয়েটির বাবাকেও তারা গাড়িতে তুলে নেয়। রাত আড়াইটা নাগাদ নির্যাতিতার সত্‍কার করে ফেলে তারা। এমনকি সত্‍কারের সময় শ্মশানের আলো নিভিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ।

তরুণীর দাদার অভিযোগ, ”জোর করে বোনের দেহ তুলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। শ্মশানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বাবাকেও। বোনের দেহ এক বার বাড়ির ভিতরে নিয়ে আসতে চাই বলে অনুরোধ জানানো হলেও সেটা পর্যন্ত শোনেনি পুলিশ।” যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ পুলিশ। তাদের দাবি, পরিবারের সম্মতিতেই নির্যাতিতাকে দাহ করা হয়েছে।

এখন প্রশ্ন উঠছে যে এমন কী কারন ছিল যে মধ্যরাতেই তরুণীর দেহকে সৎকার করতে হল ? কেন অপেক্ষা করা গেল না সকাল পর্যন্ত ? এই প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায় সবাই। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কিছু বলেননি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাহলে কী কেবল দলিতের মেয়ে বলেই তাঁর দোষীদের শাস্তি হবে না ? তাঁর এমন নির্মম মৃত্যুর জন্যে যারা দায়ী তাঁরা কী এমনই ছাড়া পেয়ে যাবে, প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: