Women

আবারও উত্তরপ্রদেশের দলিত কন্যার গণধর্ষণ, চলে গেল প্রাণ !

মেয়েদের সুরক্ষা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন, কী পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন ?

দেবশ্রী কয়াল : উত্তরপ্রদেশের হাথরাসের ঘটনা নড়িয়েছে আরও একবার মানুষকে। অপরাধীধের শাস্তির দাবিতে মানুষ জানাচ্ছেন আবেদন। প্রথমে তরুণীকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়, টানা ১৫ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করার পরেও মারা যায় সে, এরপর জোর করে তাঁর সৎকার করে পুলিশ। এই ঘা এখনও টাটকা। মানুষ এখনও এই ঘটনা থেকে বের হতে পারেননি। আর এরই মধ্যে গতকাল বুধবার রাতে উত্তরপ্রদেশের আর এক দলিতকন্যার মৃত্যু সামনে এল। অভিযোগ ওঠে, আবারও গনধর্ষনের কারণেই, বলরামপুরের বছর বাইশের এক যুবতীর মৃত্যু ঘটে।

হাথরাস ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ, মানুষ তাঁদের কাজ নিয়ে জানিয়েছে তীব্র নিন্দা। তাই এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসা মাত্রই গণধর্ষণে মূল দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জানা যাচ্ছে, বলরামপুর জেলার নির্যাতিতা যুবতী বেসরকারি এক সংস্থায় কাজ করতেন। এদিন ধর্ষকদের পৈশাচিক অত্যাচারের কারনে তাঁর মৃত্যু হয়। বলরামপুরের পুলিশ সুপার দেবরঞ্জন বর্মা এদিন জানান, কৈসরি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

নির্যাতিতা পরিবারের সদস্যরা জানান, “মেয়ে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে মেয়ের বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ায়, তাঁরা দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন। কারণ, অফিস থেকে বাড়ি ফিরতে এত রাত আগে কখনও হয়নি। যখন সে বাড়ি ফেরে তখন বিধ্বস্ত অবস্থা। রিকশা থেকে যখন নামে, হাতে গ্লুকোজের ড্রিপ ইঞ্জেকশন। আমরা তক্ষুনি হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু, হাসপাতাল পৌঁছানো পর্যন্ত শেষ রাখা হয়নি, মাঝ রাস্তাতেই তাঁর মৃত্যু ঘটে।”

ঘটনায় পুলিশ সুপার জানান, নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা লিখিত অভিযোগে দুই যুবকের নাম উল্লেখ করেন। তাঁরা অভিযোগপত্রে দাবি করেন, নির্যাতিতা মৃত্যুর আগে তাঁদের ওই দুই যুবকের নাম জানিয়ে গিয়েছে। ওই দু’জনই তাঁকে ধর্ষণ করেছে, পাশবিক অত্যাচার চালিয়ে গেছিল। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই, দুই অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার দেবরঞ্জন বর্মা জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হবে। নির্যাতিতার মা অভিযোগ করেন, মেয়েকে ধর্ষণ করার আগে অভিযুক্তরা ওকে একটা ইঞ্জেকশন দিয়েছিল। ধর্ষণের পর ওর কোমর ও দু’পা অভিযুক্তরা ভেঙে দিয়েছিল। রিকশা থেকে নামানোর সময় ও একটা কথাই বলছিল, ‘আমার খুব যন্ত্রণা হচ্ছে। আমি আর বাঁচব না।’ এখন প্রশ্ন উঠছে আদেও কী মেয়েরা নিরাপদ, বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায়ের মেয়েরা উত্তরপ্রদেশের মত জায়গায় ?

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: