Culture

ফুচকা খাওয়া, সাথে ঘুগনি, পাপড়িচাট, লাইন দিয়ে ঠাকুর দেখা এসব এখন অতীত চেষ্টায় পুরোটাই ভার্চুয়াল

২০২০ দুর্গোৎসবের নতুন চমক তবে কি ভার্চুয়াল মিডিয়া !

পল্লবী কুন্ডু : আগস্ট মাসের শেষ, সেপ্টেম্বরের শুরু অন্যান্য বছরে এই সময়ে পুজোর হটা-পটা থাকে একেবারে তুঙ্গে। কিন্তু চলতি বছরে করোনা ভয় কাটিয়ে উঠতে পারেনি কলকাতাবাসী।পুজোর ঠিক এই প্রাককালে ছোটদের যেমন পড়াশোনায় মন বসে না তেমনি মন বসেনা বড়োদের কাজেও। আকাশের দিকে তাকালেই মন যেন কোথায় হাড়িয়ে যায়। কাঁশের বন, ভোর বেলা শিউলি, ছাতিম ফুলের গন্ধে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে সকল বাঙালির মন প্রাণ। মানুষের ঢল নামতো নিউমার্কেট, গড়িয়াহাট চত্বরে। কিন্তু চলতি বছরে তার সামান্য তম কিছুই নজরে আসেনি এখনও পর্যন্ত।

অন্যদিকে পুজো কতৃপক্ষ ক্লাব গুলি জানিয়ে দিয়েছে দিনের একটা সময়ে ভিড় না জমিয়ে সকালে যেন দর্শনার্থীরা বেড়োন এবং অবশ্যই মুখে মাস্ক থাকতেই হবে নইলে প্রবেশ নিষেধ। পাশাপাশি এমনটাও বলা হয়েছে যে ভার্চুয়াল মাধ্যম যতটা সম্ভব যেন ব্যবহার করা হয়। সাথে ডিজিটাল মিডিয়া তো রয়েছেই। কারণ সবার আগে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা। পুজো ক্লাব গুলির পক্ষ থেকে তারা যতটা সম্ভব নির্দেশিকা মেনেই চলবেন কিন্তু প্রত্যেক দর্শনার্থীর নিজের সুরক্ষার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। অন্যদিকে জনসাধারণের মনেও একটা ভয় কাজ করছে পুজোতে অত ভিড়ের মধ্যে কেউই বেড়োনোর সাহস প্রকাশ করতে পারছেননা এখনো পর্যন্ত।

তবে কি ২০২০ দুর্গোৎসব-এর চেহারা এবার পুরোপুরি বদলে যাবে ? হ্যাঁ হয়তো মহানগরীর বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের সুরক্ষার কথা ভেবে ঘরে বসে ভার্চুয়াল মাধ্যম টিকেই বেঁচে নেবেন। এতে কোনো ভুল নেই, কারণ সকলকেই সচেতন থাকতে হবে বর্তমান পরিস্থিতিতে। কিন্তু সমস্যা যে অন্য জায়গায়। যে মানুষগুলো সারা বছর অপেক্ষা করে থাকে পুজোর এই ৫ টা দিনের জন্য, যারা স্বাস্থ্যের থেকেও পেটের জ্বালায় ভুগছেন। পুজোর ওই ৫ টা দিন কিছুটা আয়ের আশায় যারা ১ টা গোটা বছর অপেক্ষা করে থাকেন সমস্যায় পড়বেন সেই মানুষগুলো।

পুজো মণ্ডপের পাশে বেলুন ওয়ালা, খেলনা ওয়ালা থেকে শুরু করে ছোট ছোট দোকান গুলি যেখানে ভিড় জমে কচি-কাঁচা থেকে আমজনতার এই বছর তাদের চোখে-মুখে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। টালিগঞ্জ-এর শম্ভু দাস পেশায় খেলনা বিক্রেতা, বিভিন্ন জায়গায় ছোটদের খেলনা ফেরি করেন। এদিন শম্ভু বাবু বলেন,’পুজোতে একটু বেশি আয় হয়, ঘরে ছেলে আছে ওকে কিছু একটা কিনে দিতে পারি। কিন্তু করোনার জন্য বেরোতে পারিনি যাও বেড়িয়েছি বিক্রি-বাট্টা তেমন কিছুই হয়নি। আর এ যা অবস্থা তাতে পুজোতেও আমাদের মতো মানুষের সুরাহা কিছু হবে বলে মনে হচ্ছেনা।’ নিজেদের সুরক্ষার কথা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন,’করোনা হলে হয়তো মরবোনা কিন্তু না খেতে পেলে সবাই মিলে মরবো, তাই বেরোতেই হবে আর ভিড়ের মধ্যেই যেতে হবে কিছু করার নেই।’
তাহলে কি হবে এই মানুষ গুলোর ? সমস্তটাই নির্ভর করছে ভবিষ্যতের ওপর !

Tags
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close
Close
%d bloggers like this: