Weather

রেহাই নেই পুজোতে, পঞ্চমী থেকে দশমী রোজ-ই ভিজবে শহর

২২ থেকে ২৪ অক্টোবর অর্থাত্‍ ষষ্ঠী থেকে অষ্টমী এই তিনদিন কলকাতা এবং অন্যান্য জেলাতে বৃষ্টির তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বাড়তে পারে, জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর

পল্লবী কুন্ডু : আশংকাই সত্যি হলো। মনের কোনের মেঘ এবার আকাশে, আর সেই থেকেই শহরের বুকে ঝরে পড়লো মুষলধারা। তৃতীয়ায় ভিজলো শহর। এর পাশাপাশি ভারাক্রান্ত সকল শহরবাসীর মন-প্রাণ। অবশ্য খানিক পূর্বাভাস আবহাওয়া(Weather) দফতর তরফে আগেই মিলেছিল। আর সেই পূর্বাভাসই সত্যি হয়ে তৃতীয়া থেকেই তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়েছে কলকাতায়। বাংলার বেশিরভাগ জেলাতেই সকাল থেকে মেঘলা আকাশ। বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছে আলিপুর। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ মধ্য বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হবে। এর প্রভাবেই পুজো ভর চলবে বৃষ্টি।

হাওয়া অফিস সূত্রে জানা যাচ্ছে, মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে ওড়িশা ও অন্ধ্র উপকূলের মাঝ বরাবর স্থলভাগে প্রবেশ করবে।এর প্রভাবে দুর্গা পুজোর(Durgapuja) কয়েকদিন বৃষ্টি হবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলায়।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মূলত ২১ থেকে ২৬ অক্টোবর অর্থাত্‍ পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত রোজই দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ২২ থেকে ২৪ অক্টোবর অর্থাত্‍ ষষ্ঠী থেকে অষ্টমী এই তিনদিন কলকাতা এবং অন্যান্য জেলাতে বৃষ্টির তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বাড়তে পারে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বুধবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা এবং স্থায়িত্ব বাড়বে দক্ষিণবঙ্গে। কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলায় বুধ, বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আলিপুর জানিয়েছে, আজ কলকাতায় আংশিক মেঘলা আকাশ থাকবে সারাদিন। আর্দ্রতা জনিত অস্বস্তি সকাল থেকেই বজায় রয়েছে। দু-এক পশলা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে শহর ও শহরতলিতে। কলকাতার(Kolkata) বেশ কিছু অংশে ইতিমধ্যেই ঝেঁপে বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই নিম্নচাপের কথা আগেই জানিয়েছিল হাওয়া অফিস। সেই সঙ্গে পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল নিম্নচাপ সৃষ্টির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা আরও বেশি শক্তিশালী হবে। তারপর অগ্রসর হবে ওড়িশা এবং অন্ধ্র উপকূলে। এই নিম্নচাপের প্রভাবে এ রাজ্যে দক্ষিণ পশ্চিমী ঝঞ্ঝার সাহায্যে প্রচুর পরিমাণ জলীয় বাষ্প ঢুকবে। আর তার জেরেই বজ্রবিদ্যুত্‍-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে পুজোর কয়েক দিন। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস বাংলা থেকে বর্ষা বিদায় নিতে এখনও বেশ কিছুটা দেরি রয়েছে। যে হারে বঙ্গোপসাগরে একের পর এক নিম্নচাপ তৈরি হচ্ছে তাতে এটা স্পষ্ট যে বিদায়বেলায় যথেষ্ট সক্রিয় মৌসুমী বায়ু। তাই নিম্নচাপের দোসর ঘূর্ণাবর্ত। দুইয়ের প্রভাবেই বারবার বৃষ্টি হচ্ছে রাজ্যে। তবে এই নিম্নচাপের প্রভাবে কেবল দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি হবে না। ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে ওড়িশা, অন্ধ্র, তামিলনাড়ু, কর্নাটক এই চার উপকূলেও।

অতএব মা দুর্গার আশীর্বাদে সকলকে সুরক্ষিত রাখতেই হয়তো প্রকৃতির এই খেলা। কারণ পুজো শুরু হওয়ার আগেই যে দৃশ্য ধরা পড়ছে তাতে মানুষের ঢলকে নিয়ন্ত্রণে রাখা কোনো প্রশাসনের পক্ষেই হয়তো সম্ভব হবেনা।আর তাই মা স্বয়ং তার সন্তানদের সুস্থ রাখার দায়িত্ব নিয়েছেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: