West Bengal

চলতি সপ্তাহের প্রথম লকডাউন : সপ্তাহের পাঁচ দিন গণপরিবহনে ঠেসাঠেসি আর দু দিন ঘরে কোয়ারেন্টাই

চলতি সপ্তাহের লকডাউনের প্রথম দিন আজ, সচেতনতার শীর্ষে উঠে মহানগরীকে কড়া নজরবন্দি করেছে প্রশাসন।

পল্লবী কুন্ডু : আনলকের মধ্যে ফের কড়া লোকডাউন। চলতি সপ্তাহের লকডাউনের প্রথম দিন আজ। আর আবারো সচেতনতার শীর্ষে উঠে মহানগরীকে কড়া নজরবন্দি করেছে প্রশাসন। সামান্যতম শিথিলতা যাতে না হয় সে দিকে ধ্যান দিয়েই সকাল থেকে চলছে নাকা চেকিং। বড়ো গাড়ি তো দূরের কথা সাইকেল নিয়েও কেউ পাশ কাটাতে পারছেনা। নজরে আসলেই কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন। রাজ্যের নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সম্পূর্ণ লকডাউন থাকবে সপ্তাহে দু’দিন। আর এই দিন গুলিতে সর্বদা সজাগ থাকবে পুলিশ। রাস্তার বড়ো রাস্তার মোড় গুলিতে দেওয়া হচ্ছে পুলিশি ব্যবস্থা। যাতে কেই এই বিধি-নিষেধ অমান্য করতে না পারে।

একাধারে যেমন পথে নেমে চালানো হচ্ছে নজরদারি। তেমনই লালবাজারের কন্ট্রোল রুম থেকেই সিসি ক্যামেরায় নজর রেখেছেন পুলিশ অফিসারেরা। মুহূর্তে মুহূর্তে চলছে টহল। শ্যামবাজার থেকে বেহালা, গড়িয়াহাট, রাসবিহারী, টালিগঞ্জ, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ-সহ কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় ছবিটা একই রকম। ঠাকুরপুকুরে নাকা তল্লাশি চলছে। জেলা থেকে কলকাতায় ঢোকার মুখে সমস্ত গাড়িকে আটকানো হচ্ছে। শুধু বড়ো রাস্তার মোড়েই নয় রাজাবাজার, পার্ক সার্কাস এবং খিদিরপুর এলাকাতে অলিগতিতেও চলছে চেকিং। কলকাতার সাথে সাথে জেলা গুলিতেও চলছে বেশ কড়া নজরদারি।

অন্যদিকে, কেবল বিশেষ ক্ষেত্রেই মিলবে ছাড়। পুলিশ প্রথমেই দেখতে চাইবে পরিচয় পত্র বা i-card এবং তারপর যদি তারা মনে করেন যে সত্যিই এটি একটি জরুরি ক্ষেত্র তবেই মিলবে ছাড়। অতএব শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবাতেই মিলবে ছাড় অন্যথায় পুলিশ ধরলে সোজা ‘ব্যাক হোম’ .পার্ক স্ট্রিট, রিপন স্ট্রিট, নিউ আলিপুর, তারাতলায় ব্যক্তিগত গাড়ি, বাইকেও ব্যাপক ভাবে ধড়পাকড় চলছে। যাঁরা গাড়ি নিয়ে বের হচ্ছেন কিন্তু কোনো যুক্তি সঙ্গত কারণ দেখতে পারছেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে নাম লিখে রাখা হচ্ছে। অনেক গাড়ি বাজেয়াপ্তও করা হচ্ছে। একজন পোশাক কারখানায় কর্মরত কর্মী নাম শ্যামল দত্ত,বাড়ি বেহালা শিলপাড়া।সকালে সাইকেল নিয়ে টালিগঞ্জ অবধি গিয়েও তাকে ফেরত আসতে হয়। তার কাছে কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন,’ এপার থেকে দেখলাম মোড়ের মাথায় সব মামা-রা ডান্ডা নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, গেলেই জানি কপালে দুঃখ আছে, তাই বেকার আবার চলেই আসলাম।’

লকডাউন চলছে এবং পাশাপাশি কড়া নজরেও রাখা হয়েছে গোটা বিষয়। কিন্তু প্রশ্ন হল যে, সপ্তাহে যেখানে বাকি ৫টা দিন মানুষ একে অপরের ঘাড়ে উঠে গণ-পরিবহন গুলিতে যাতায়াত করছে সেখানে ২ দিন বাড়ি বসে সংক্রমণ রোধ করা কি আদৌ সম্ভব ?

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close
Close
%d bloggers like this: