Education Opinion

যদিও লকডাউন তবুও উচ্চমাধ্যমিক রেজাল্ট : সঠিক মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্ক চরমে

প্রকাশিত ২০২০ উচ্চমাধ্যমিক ফলাফল, সত্যিইকি ত্রুটিহীন মূল্যায়ন

পল্লবী কুন্ডু : উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ে বারংবার মতবদল, কেন ? উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ কি প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর জীবন নিয়ে ছেলে খেলা খেলছে ? ‘উচ্চমাধ্যমিক’ এমনি এক পরীক্ষা যা একটি পরীক্ষার্থীর তার জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্যের পথে এগিয়ে দেয়। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে কতৃপক্ষের কি এমন কাজ সাজে ? তারিখটা ছিল ৭.৭.২০, পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন এবং ওই বিজ্ঞপ্তির সাহায্যে জানানো হয় ১০ ই আগস্ট ২০২০ এর মধ্যে সমস্ত পরীক্ষকদের উত্তরপত্র প্রধান পরীক্ষকের বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে হবে।

আর ঠিক তার সাত দিন পরেই সংসদের নয়া ঘোষণায় ঘুম কেড়েছে সকল পরীক্ষার্থীদের। ১৪.৭.২০ তে সংসদ ঘোষণা করে আগামী ১৭ জুলাই অর্থাৎ আজ শুক্রবার প্রকাশ হবে উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল।আর এই ঘোষণার পরেই দফায় দফায় প্রশ্ন উঠছে একাধিক মহলে।যেখানে ৭ তারিখের ঘোষণায় ১০ ই আগস্ট প্রধান পরীক্ষকের কাছে খাতা পাঠানোর কথা ছিল সেখানে কোন দিক বিচার করে সংসদ ১৭ জুলাই ফলাফল প্রকাশ করছে সংসদ ? তাহলে তো একথা স্পষ্ট যে পরীক্ষার খাতা প্রধান পরীক্ষক অবধি পৌঁছয়নি। অর্থাৎ স্ক্রটিনি ছাড়াই একজন পরীক্ষার্থীর এত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে।অবশ্য পরীক্ষক মহল থেকে এটাই জানানো হয়েছে যে, সমস্ত খাতা পরীক্ষকেরা নিজেই স্ক্রুটিনি করেছেন অর্থাৎ রিচেক করেছেন।

কিন্তু গত এতগুলো বছরে খাতা দেখার ক্ষেত্রে যে এক ত্রুটিহীন প্রচেষ্টা সংসদের পক্ষ থেকে লক্ষিত হয়েছে। এই বছর সে বিষয়ে সব থেকে বেশি গাফিলতি চোখে পড়ছে।উচ্চমাধ্যমিকের মত একটি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে যা কখনোই কাম্য নয়।এরূপ ত্রুটিপূর্ণ মূল্যায়ন- এর সাহায্যে প্রাপ্ত নম্বরের পরিপ্রেক্ষিতে আবার যে বিষয় গুলির পরীক্ষা হয়নি সেগুলির নম্বরও নির্ধারিত হবে। ফলে সমস্ত গোটা বিষয়টিকে দেখতে গেলে বিরাট ক্ষতিগ্রস্ত হবে পরীক্ষার্থীদের ফলাফল। ভবিষ্যতে এই প্রত্যেকজন পরীক্ষার্থীদের জন্য যা বিরাট ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। সে সময় প্রতিটা ক্ষতির জবাব দিহি কে করবে ? উত্তর দেওয়ার জন্য তখন সংসদ থাকবে তো ?

এই গোটা বিষয় নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৌগত বসু মত প্রকাশ করে তিনি বলেন,’এক্ষেত্রে ধরে নিতে হবে, পরীক্ষক খাতা দেখলেও সব প্রধান পরীক্ষকদের তত্ত্বাবধানে খাতা স্ক্রুটিনি হল না। এভাবে ত্রুটিপূর্ণ মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বরের পরিপ্রেক্ষিতে আবার যে যে বিষয়ের পরীক্ষা হয়নি, তার নম্বরও নির্ধারিত হয়ে গেলো। এর ফলে সামগ্রিক ভাবে পরীক্ষার্থীর ফল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’

তাহলে ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে যে ক্ষতির সম্মুখীন হতে চলেছে এই প্রত্যক ছাত্র-ছাত্রী, যে ক্ষতির ভার তাদের গোটা জীবন বয়ে নিয়ে চলতে হবে। সত্যিই কি প্রতিটি পরীক্ষার্থী নিজেদের পরিশ্রম অনুযায়ী ফল পাবে ? এই নির্ণায়মান কি সত্যিই সঠিক মূল্যায়ন ? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তরে কি বলবে পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ ! ২০২০ উচ্চমাধ্যমিকের তিনটি পরীক্ষা হয়নি, তবে সে ক্ষেত্রে ওই তিন বিষয়ের নম্বর কিসের ভিত্তিতে মূল্যায়ন হবে।গড়ে নম্বর আসবে নাকি অন্য কোনো পদ্ধতি ? ভিন্ন পদ্ধতি হলেও অবশ্যই তা সঠিক যুক্তি সংগত হতে হবে।এই গোটা বিষয় নিয়ে আজ রাত ঠিক ৯ টায় আমাদের সাথে মুখোমুখি থাকছেন WestBengal Government College Teacher’s Association General Secretary দেবাশীষ সরকার।

Tags
Show More

Related Articles

Back to top button
Close
Close
%d bloggers like this: