Life Style

কোলেস্টেরল নিয়ে চিন্তিত? জেনে নিন এই ৯ টি খাবারের নাম

জেনে নিন কোন কোন খাদ্যগ্রহণের ফলে অতিরিক্ত কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়

বর্তমান সময়ে এই কর্মব্যস্ত জীবনে আমাদের শরীরের অন্যতম শত্রু হচ্ছে কোলেস্টেরল। এটি এক ধরনের চর্বি যা দেখতে অনেকটা মোমের মতো নরম। আমাদের দেহের কোষের দেয়ালে এটি সঞ্চিত থাকে। আমরা চর্বি জাতীয় খাবার খেলে আমাদের যকৃতে এই কোলেস্টেরল তৈরি হয় এবং রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে সেই তৈরী হওয়া কোলেস্টেরল আমাদের দেহের সমস্ত রক্তনালিতে ছড়িয়ে পড়ে। এটি শরীরের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে। কিন্তু অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ধমনির দেয়ালে জমাট বেঁধে প্লাক তৈরি করে যা রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় যেমন-উচ্চ রক্তচাপ, হৃত্‍পিণ্ডের নানা অসুখ ইত্যাদি।

তবে এই কোলেস্টেরল কেও সঠিক খাদ্য গ্রহণের ফলে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। ঠিক এইরকমই ৯ টি খাবারের ব্যাপারে জেনে নিন বিস্তারিত।

ওটমিল বা ভুট্টার তৈরি খাবার: প্রাতরাশে ভুট্টা বা যবের তৈরি ওটমিল বা কর্নফ্লেক্স একটি আদর্শ খাবারের ভূমিকা পালন করে। প্রাতরাশে এই ওটমিল গ্রহণ করলেই দিনের শুরুতে ১ থেকে ২ গ্রাম আঁশ খাওয়া হয়ে যাবে যা অন্ত্রে কোলেস্টেরল শোষণে বাধা দেবে।

বাদাম: প্রতিদিন এক মুঠো বাদাম খেলে আপনার রক্তে ক্ষতিকর চর্বির মাত্রা ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এছাড়াও বাদাম খেলে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পাওয়া যায় যা শরীরে সারাদিন শক্তি যোগায়।

সামুদ্রিক মাছ: সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন তৈলাক্ত মাছ খাওয়া উচিত। তা যদি সামুদ্রিক মাছ হয় তাহলে আরও ভালো। তৈলাক্ত মাছ বা সামুদ্রিক মাছে থাকে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এটি রক্তে ক্ষতিকর ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে।

সবুজ শাক-সবজি: সবুজ শাকসবজি খাওয়া সর্বদাই শরীরের জন্য ভালো। এছাড়াও এতো কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও সমান কার্যকরী। বিভিন্ন ধরনের শাক এবং খোসাসহ ফলমূলে অন্ত্রের চর্বি শোষণ কমানোর উপাদান রয়েছে। তাই নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখুন সব ধরণের সবুজ শাকসব্জি এবং ফলমূল রাখা উচিত।

রসুন: রসুন রক্তনালীর গায়ে কোলেস্টেরল জমা হওয়া রোধ করে। ফলে রক্ত জমাট বেঁধে রক্তনালী বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

অ্যাভোকাডো: অ্যাভোকাডোয় থাকা ‘বেটা-সিস্টোসেরল’ খাবার থেকে শরীরে কোলেস্টেরল শোষণের পরিমাণ কমায়। এছাড়াও এটি শরীরে ‘এইচডিএল’ নামক উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতেও সাহায্য করে।

চা: চা-এ উপস্থিত ‘ফ্লাভানয়েডস’ একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা শরীরে ‘এলডিএল’ বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। এই ‘এলডিএল’ ই রক্তনালীতে ‘প্লাক’ জমে তা বন্ধ করার পেছনে প্রধানত দায়ী।

ডার্ক চকলেট: চা এর মতোই ডার্ক চকলেটেও রয়েছে প্রচুর পরিমানে ‘ফ্লাভানয়েডস’। এটিও ‘এলডিএল’য়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে ।

সয়া: আমিষাশীদের খাদ্যতালিকায় থাকা চর্বি ও মাংসের স্বাস্থ্যকর বিকল্প হলো সয়া। সয়াতে প্রকৃত মাংসের মতো ‘স্যাচুরেটেড ফ্যাট’ নেই। ফলে কোলেস্টেরল কমাতে সক্ষম এ খাবারটি।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: